মাথাভাঙা, ১ জুলাই:
বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা শহরে। মাথাভাঙা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় নগদ অর্থের পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা গভীর রাতে বা বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে বাড়ির মূল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বাড়ির বিভিন্ন ঘর তছনছ করে আলমারির তালা ভেঙে নগদ অর্থ এবং সোনার গয়না লুট করে পালিয়ে যায়। বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে কেউ না থাকায় চুরির ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে কারও নজরে আসেনি।
বাড়ির গৃহকর্ত্রী মনিমা পাল জানান, তাঁর স্বামী সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীতে (বিএসএফ) কর্মরত থাকায় কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তাঁদের মেয়েও চাকরির কারণে বর্তমানে কোচবিহারে থাকেন। সেই কারণে তিনিও বেশিরভাগ সময় মেয়ের সঙ্গেই কোচবিহারে অবস্থান করেন এবং মাঝেমধ্যে মাথাভাঙার বাড়িতে এসে দেখাশোনা করে যান।
বুধবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ তিনি বাড়িতে এসে দেখেন, মূল গেটের তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর ঘরে ঢুকতেই তিনি দেখতে পান, আলমারির তালা ভাঙা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পুরো বাড়ি তল্লাশি করে তিনি বুঝতে পারেন, আলমারিতে রাখা প্রায় ২০ হাজার টাকা নগদ এবং আনুমানিক পাঁচ ভরি সোনার গয়না চুরি হয়ে গেছে।
ঘটনার পরই তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে মাথাভাঙা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ বাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখে এবং সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই বাড়িটি ফাঁকা থাকার বিষয়টি জানত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পরিকল্পনা করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে তারা বাড়িতে প্রবেশ করেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ফাঁকা বাড়িকে লক্ষ্য করে চুরি এবং দুষ্কৃতী কার্যকলাপের ঘটনা বেড়েছে। তাই এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

