শিলিগুড়ি, ২ জুলাই:
শহরে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করল শিলিগুড়ি পৌরনিগম। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পৌরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পোনামি মন্দির রোড এলাকায় একটি বহুতল আবাসনের নিচতলায় অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত অংশ ভাঙার অভিযান চালানো হয়। পৌরনিগমের এই পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবেই অভিযান সম্পন্ন হয়।
পৌরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বহুতলটির একটি অংশ অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবৈধ অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই বৃহস্পতিবার সকালে পৌরনিগমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং ভাঙার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় একটি বিশেষ দল।
অভিযানের সময় কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকায় ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই ধাপে ধাপে অবৈধ নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে শিলিগুড়ি শহরে অবৈধ নির্মাণ, বেআইনি দখলদারি এবং অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে শিলিগুড়ি পৌরনিগম। শুধু অবৈধ বহুতল নির্মাণ নয়, রাস্তা, ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা দোকান, বাজার এবং অন্যান্য স্থায়ী ও অস্থায়ী অবৈধ কাঠামোর বিরুদ্ধেও একাধিকবার বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক পরিষেবার উন্নতি এবং নিরাপদ শহর গড়ে তুলতেই এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তবে এই অভিযানের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক। তাঁর অভিযোগ, কোনও ধরনের পূর্ব নোটিশ বা পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই পৌরনিগম ভাঙার কাজ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় তাঁর বাড়ির পাশাপাশি আরও একাধিক নির্মাণে একই ধরনের অনিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসন বেছে বেছে তাঁর সম্পত্তির বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাড়ির মালিকের আরও দাবি, যদি এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়, তবে তা যেন সকলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। তিনি গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও আবেদন জানান।
অন্যদিকে, পৌরনিগমের বক্তব্য, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে কোনও নির্মাণই বরদাস্ত করা হবে না। আইন অনুযায়ী প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে আবারও অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে নাগরিকদের।

