কোচবিহার, ৬ জুলাই :
কোচবিহারের সুকটাবাড়ি জুনিয়র স্টেট হাই মাদ্রাসায় মিড-ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের তীর রান্নার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত কর্মীরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন যে রান্নার কাজ শেষ হওয়ার পর কয়েকজন কর্মী ব্যাগে করে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গত ৪ জুলাই কয়েকজন মহিলা কর্মীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তল্লাশির সময় একটি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ কেজি চাল, ডাল, তেল-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কয়েকজন কর্মী দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে আরও কয়েকজনের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, পুরো ঘটনার ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে, যেখানে ব্যাগে চাল, ডাল ও তেল দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, রান্নার দায়িত্বে থাকা মহিলাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কাঁচামাল নয়, ছাত্রছাত্রীদের খাবার পরিবেশনের পর অবশিষ্ট রান্না করা ভাত, ডাল ও সবজি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ, ব্যাগ তল্লাশির সময় তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা হয় এবং ওড়না ধরে টানাটানি করা হয়। যদিও স্থানীয়দের দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এমন কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ঘটনাটি বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর ঘটেছে। বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে মিড-ডে মিল পরিবেশন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয় এবং কোনও ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার নতুন মোড় আসে ওইদিন রাতেই। অভিযোগ, ব্যাগ তল্লাশিতে অংশ নেওয়া এক ব্যবসায়ীর উপর রান্নার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মহিলা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চড়াও হন। অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জুতো দিয়েও আঘাত করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও সেখানেও গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনারও ভিডিও রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শিশুদের প্রাপ্য মিড-ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সম্ভাব্য অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদনও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

