ধূপগুড়ি, ৭ জুলাই:
আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েও শস্যবিমার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন ধূপগুড়ির বহু কৃষক। শস্যবিমার অর্থ বণ্টনে স্বজনপোষণ ও অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার ধূপগুড়ির ঝুমুর কৃষি অফিসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে তাঁদের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে অভিযোগ তুলে ধূপগুড়ি–ময়নাগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মরশুমে আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন বহু চাষি। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা এবং উৎপাদন সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শস্যবিমার অর্থ পাওয়ার আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক আলু চাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত বিমার টাকা পৌঁছায়নি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, যাঁরা বাস্তবে আলু চাষ করেছেন এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই বিমার অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ অভিযোগ, এমন অনেক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বিমার টাকা পৌঁছেছে, যাঁরা আদৌ আলু চাষ করেননি। এই ঘটনায় শস্যবিমার টাকা বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধূপগুড়ির ঝুমুর কৃষি অফিসে জড়ো হয়ে কৃষকরা কৃষি দফতরের আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, কোন ভিত্তিতে শস্যবিমার টাকা বণ্টন করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা কীভাবে তৈরি হয়েছে, কেন বহু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিমার অর্থ পেলেন না এবং যাঁরা চাষই করেননি বলে অভিযোগ, তাঁরা কীভাবে বিমার সুবিধা পেলেন—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগ, কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এরপর কৃষকরা কৃষি অফিস থেকে মিছিল করে ধূপগুড়ি–ময়নাগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে পৌঁছে অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের সময় তাঁরা শস্যবিমার টাকা বণ্টনে স্বচ্ছতা, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
জাতীয় সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। পরে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকও ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কৃষকদের সঙ্গে কৃষি দফতরের আধিকারিকদের বৈঠকের ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে কৃষি দফতরের আধিকারিকরাও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও এখনও বিমার টাকা পাননি, তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে যোগ্য কৃষকদের অ্যাকাউন্টে শস্যবিমার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন এবং আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেন। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিক্ষোভকারী কৃষকরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শস্যবিমার অর্থ বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং বণ্টন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

