নিজস্ব সংবাদদাতা , ১০ জুলাই
১৬ জুলাই পর্যন্ত স্বস্তি নেই! উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
দুর্যোগ কমার আপাতত সুখবর নেই। ফের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস করল আবহাওয়া দফতর। ১০ থেকে ১২ জুলাই উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ৭ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ১০ জুলাই দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
🔴উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া:-
***********************
উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে বর্তমানে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন বাংলাদেশ অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সক্রিয় মেঘের সঞ্চার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এসব এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টিপাত ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল ১১ জুলাই উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় (দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়ার বিস্তারিত তথ্য:
তাপমাত্রা: দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ২৮° সেলসিয়াস থেকে ৩১° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ: উত্তরবঙ্গের উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সক্রিয় থাকায় টানা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস: বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পাহাড়ে ধস ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা: অনবরত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় (দার্জিলিং ও কালিম্পং) ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা এবং রায়ডাক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সতর্কবার্তা: ভারী বৃষ্টির কারণে পার্বত্য অঞ্চলে (দার্জিলিং ও কালিম্পং) পাহাড় ধসের সতর্কতা এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে জল বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া :-
************************
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় চলছে দফায় দফায় বৃষ্টি। কোথাও জল জমেছে, কোথাও যানজট, আবার কোথাও বর্ষার আমেজে স্বস্তি।
সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর অবস্থান করায়, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গভীর সঞ্চালনশীল মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়। এর ফলেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাতভর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সক্রিয় মেঘের সঞ্চার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এসব এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টিপাত ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী কাল ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে. আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত ও সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বজায় থাকবে.
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সতর্কতা বা হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে. বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি.।
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল: -কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনা জেলায় সকাল থেকেই আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে. দিনভর দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি বা বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে.
ঝোড়ো হাওয়া: বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার (কোথাও কোথাও ৫০ কিমি পর্যন্ত) বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে.
তাপমাত্রা: কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে. আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তিও কিছুটা বজায় থাকবে।
ঝড়-বৃষ্টি: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোথাও কোথাও ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা: আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে।
সতর্কতা:- বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. এছাড়া ভারী বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকায় সাময়িক জল জমতে পারে এবং যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে.
🔴কোচবিহারের আবহাওয়া:-
****************************
আগামীকাল ১১ জুলাই কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) অনুযায়ী আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে।
আগামীকালের আবহাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩১° সেলসিয়াস
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৭° সেলসিয়াস
বৃষ্টির সম্ভাবনা: প্রায় ৬৫% – ৭০% (বিকেলের দিকে ও রাতে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে)
আর্দ্রতা : প্রায় ৮৩% থেকে ৮৭%, যার ফলে বেশ ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
বাতাসের গতিবেগ: দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।

