জলপাইগুড়ি, ১০ জুলাই:
শ্রাবণ মাসকে সামনে রেখে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম শৈব তীর্থ জল্পেশ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এবারের জল্পেশ মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পুণ্যার্থীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী এবং রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন এবং জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সন্দীপ কুমার ঘোষ-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। শ্রাবণ মাসে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান চলাচল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, আলোকসজ্জা এবং মন্দির চত্বরে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবার, যা শিবভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন হিসেবে বিবেচিত, সেদিন জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে আসা পুণ্যার্থীদের ওপর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুষ্পবৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ শুধু ভক্তদের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতাই হবে না, বরং জল্পেশ মেলাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিত করে তুলতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটনেরও উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে জলপাইগুড়ি সদর কেন্দ্রের বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী জানান, এবার জল্পেশ মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে কোনও ধরনের চাঁদা নেওয়া হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের নিয়ে মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় আগত ভক্তদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দর্শনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি নজরদারি, মেডিক্যাল ক্যাম্প, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা এবং জরুরি সহায়তা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
এদিকে জল্পেশ মন্দির কমিটির সভাপতি জানান, আসন্ন শ্রাবণ মাসের মেলাকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২০ তারিখ এক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জল্পেশ মন্দিরে এসে মহাদেবের পুজো দেবেন বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। সেই উপলক্ষেও বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শ্রাবণ মাসে জল্পেশ মন্দিরে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি অসম, বিহার, সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে লক্ষাধিক শিবভক্ত জল ঢালতে ও পুজো দিতে আসেন। সেই বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করেই এবারের মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং পর্যটনবান্ধব করে তুলতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা একযোগে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

