শিলিগুড়ি, ২৪ জানুয়ারী :
শিলিগুড়ির ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন কলোনি, ঝিলিমিলি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এক মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম পল্লবী চক্রবর্তী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
জানা যায়, পল্লবী চক্রবর্তী তাঁর মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল এবং ডিভোর্সের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে দাবি। সেই কারণে স্বামী আলাদা থাকতেন। ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অশান্তি হয় বলে জানা যায়।
মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে একটি অজানা নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে ফোন আসে। সেই ফোনালাপে কিছু ব্যক্তিগত বিষয় ও কয়েকটি ছবি নিয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি। ওই ফোনকলের পরেই মা-মেয়ের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং সেই সময় মেয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে আবার একই অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে এবং তাকে ঘরে গিয়ে মায়ের খোঁজ নিতে বলা হয়। ঘরে ঢুকেই মেয়ে মাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর দ্রুত পল্লবী চক্রবর্তীকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শনিবার সকালে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে গোটা ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অজানা নম্বর থেকে ফোনটি কে করেছিল, সেই ফোনালাপের বিষয়বস্তু কী ছিল এবং মা-মেয়ের অশান্তি ঠিক কতটা গুরুতর ছিল—তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মেয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও পরিবারের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
উল্লেখ্য, যে বাড়িতে পল্লবী চক্রবর্তী ভাড়ায় থাকতেন, সেখানে বর্তমানে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এই প্রেক্ষাপটেও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। খবর লেখা পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং গোটা বিষয়টি ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি।

