কোচবিহার, ২ জুলাই:
স্মারকলিপি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার-১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস চত্বর। ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির ডেপুটেশন কর্মসূচিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পুলিশ।
সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে এদিন ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষ থেকে বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সংগঠনের সদস্য-সমর্থকেরা মিছিল করে কোচবিহার-১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস চত্বরে পৌঁছন।
অভিযোগ, বিডিও অফিসে পৌঁছতেই শাসক দল-ঘনিষ্ঠ একদল ব্যক্তি তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির রূপ নেয় বলে অভিযোগ। হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য বিডিও অফিস চত্বরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির অভিযোগ, শুধু বাধা দেওয়াই নয়, তাঁদের হাতে থাকা দলীয় পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয়। সংগঠনের দাবি, যারা এই ঘটনায় জড়িত, তারা সকলেই শাসক দল-ঘনিষ্ঠ। পরিকল্পিতভাবে তাঁদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন সংগঠনের নেতৃত্ব।
যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশি উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পর ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যারা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার অধিকার সকলের রয়েছে এবং সেই অধিকার খর্ব করার যে অভিযোগ উঠেছে, তার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে অভিযোগের বিষয়ে শাসক দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই সংঘর্ষে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

