- নিজস্ব সংবাদদাতা, ১১ মার্চ :
ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকা গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশ রানার ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয় ইচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি দিয়েছে আদালত।
৪৪ বছর বয়সী হরিশ রানা ২০১৩ সালে চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় একটি দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত পান। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি স্থায়ী সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হরিশ রানার জীবনরক্ষাকারী কৃত্রিম চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সুস্থ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা না থাকলে কাউকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা তাঁর মানবিক অধিকারের পরিপন্থী।
হরিশের বাবা-মা বার্ধক্যের কারণে তাঁর সেবা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের এই অবস্থায় কষ্ট পেতে দেখে তাঁরা আর মানসিকভাবে তা সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতির আবেদন জানান।
এই সিদ্ধান্তের আগে দিল্লির সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। তাঁদের রিপোর্টে জানানো হয়, হরিশ রানার মস্তিষ্কের ক্ষতি অপূরণীয় এবং তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই।

