কোচবিহার, ২ সেপ্টেম্বর
মিষ্টির দোকানে তৈরি হচ্ছে খাবার, অথচ চারপাশে নোংরা! কোথাও খাবার রাখা হচ্ছে খোলা অবস্থায়, কোথাও আবার কর্মীদের হাতেই নেই গ্লাভস। কোচবিহার শহরের একাধিক মিষ্টির দোকান ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে এমনই ছবি দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের।
বুধবার কোচবিহার শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও মিষ্টি তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে উঠে আসে খাবার তৈরির পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে একাধিক অভিযোগ। দোকান ও কারখানার আশপাশে অপরিচ্ছন্নতা, খাবার ঢেকে না রাখা এবং কর্মীদের হাতে গ্লাভস না থাকার মতো বিষয়গুলি নজরে আসে আধিকারিকদের।
তাহলে যে খাবার প্রতিদিন সাধারণ মানুষ কিনে খাচ্ছেন, তা কতটা নিরাপদ? অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উঠতে শুরু করেছে এই প্রশ্ন। মিষ্টি তৈরির জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এদিনের এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিযানে বেশ কিছু অনিয়ম নজরে আসার পর শহরের চারটি মিষ্টির দোকানে নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি দোকানকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণ করার ব্যাপারে দোকান মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক জিতিন যাদব, সদর মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দী-সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। আধিকারিকরা দোকান ও কারখানাগুলির রান্নাঘর, খাবার তৈরির পরিবেশ এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন।
তবে অভিযানের মাঝেই মিলেছে কিছুটা স্বস্তির ছবিও। প্রশাসনের তরফে আগে সতর্ক করে যাওয়া বেশ কয়েকটি দোকানে ফের গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে আগের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উন্নতি দেখতে পান আধিকারিকরা। সেই পরিবর্তনে খুশি জেলাশাসক বলেই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে এদিনের অভিযানের পরও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—শুধু নোটিশ আর সতর্ক করলেই কি বদলাবে পরিস্থিতি? নাকি আগামী দিনগুলিতে আরও কঠোরভাবে নজরদারি চালানো হবে? কারণ মিষ্টির দোকানে সামান্য অসচেতনতাও সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।
বিশেষ করে পুজোর মরশুম সামনে। এই সময় মিষ্টির দোকানগুলিতে ক্রেতার ভিড় এবং বিক্রি দুটোই বাড়ে। ফলে খাবার তৈরির জায়গা পরিষ্কার রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং খাবার ঢেকে রাখার মতো বিষয়গুলিতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রশাসনের এই অভিযান কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, এখন সেদিকেই নজর কোচবিহারবাসীর।

