মাথাভাঙা, ৬ জুন:
মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে হাতবোমা সদৃশ বস্তু এবং কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পার্টি অফিসটি কার্যত বন্ধ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ওই কার্যালয়ের ভিতরে সন্দেহজনক কিছু বস্তু মজুত রয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কৌতূহলী স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাথাভাঙা থানা-র পুলিশ। পুলিশ পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায়। স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন অফিসের ভিতর থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমা সদৃশ বস্তু এবং একাধিক কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। যদিও উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলির প্রকৃতি সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য শেখর রায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই পার্টি অফিসটিকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের উদ্দেশ্যে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে খাট, কন্ডোমের প্যাকেট এবং বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু উদ্ধার হওয়ায় সেখানে কী ধরনের কার্যকলাপ চলত, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেগুলি আদৌ হাতবোমা কি না এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে ইস্যু করে শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও এলাকায় টহল দিতে দেখা গিয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

