মাথাভাঙা , ২৫ আগস্ট
একটি মোটরবাইক চুরির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে এল বড়সড় সাফল্য। তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেফতার করার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হল একে একে ১২টি চোরাই মোটরবাইক। শুধু কোচবিহারেই নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলাতেও এই চক্রের যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় শনিবার শীতলকুচি থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন কোচবিহার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিকি আগরওয়াল। উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার, সার্কেল ইন্সপেক্টর সঞ্জীব দত্ত, শীতলকুচি থানার ওসি নকুল দত্ত-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ আগস্ট শীতলকুচি থানায় একটি মোটরবাইক চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্ত শুরু করতেই একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে আসে। তদন্তের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হলেন শীতলকুচির বাসিন্দা আকাশ দে ও বাবলু দাস এবং মাথাভাঙার অন্দরান পখিহাগার বাসিন্দা অজয় দাস।
পুলিশের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১২টি চুরি যাওয়া মোটরবাইক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই চক্রের কার্যকলাপ শুধু কোচবিহার জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলাতেও মোটরবাইক চুরির ঘটনায় ধৃতদের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তবে এখানেই শেষ নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিকি আগরওয়াল। ফলে এই চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের নজর।
কোথা থেকে চুরি করা হতো বাইক? কার কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়া হতো? চক্রের পিছনে কি আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে শীতলকুচি থানার পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ১২টি মোটরবাইকের প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, এই বাইক চুরি চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ।
#CoochBehar #Shitalkuchi #BikeTheft #StolenBikes #PoliceInvestigation

