দিনহাটা, ১৯ জুলাই:
ফের বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনন্ত মহারাজ। শনিবার কোচবিহার জেলার বামনহাটের পাথরশন মাধাইখাল মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দল তাঁকে আর কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আমিই নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন দল ক্ষমতায় আসার পর আমাকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। একটা কুকুরকে যতটা দাম দেয়, আমাকে ততটুকুও দেয় না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গও এদিন সভামঞ্চ থেকে ব্যাখ্যা করেন অনন্ত মহারাজ। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“আমি সেভাবে বলিনি। আমি বলেছি, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন কোচবিহারে এসেছিলেন, তখন তিনি আমাকে ডেকে বলেছিলেন— ‘মহারাজ, রাগ করবেন না, একদিন আপনিই পশ্চিমবঙ্গ চালাবেন।'”
তাঁর এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এরপর আরও আবেগঘন সুরে অনন্ত মহারাজ বলেন,
“বিজেপি আমাকে ডেস্ট্রয় করে দিয়েছে। আমি বেঁচে আছি একমাত্র আমার বাবা-মায়ের দয়ায়।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও অভিমান প্রকাশ করেন। বক্তব্যের সময় তিনি একাধিকবার দাবি করেন, দলীয় সংগঠনে তাঁর অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
অনন্ত মহারাজ দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীকালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ হন। অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য একাধিকবার রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শনিবারের এই বক্তব্যও তার ব্যতিক্রম নয়।
অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের পর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর বক্তব্য উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিতে পারে।

