বক্সীরহাট, ৭ জুলাই:
ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দীর্ঘ দিন নিখোঁজ থাকার পর, গণপিটুনির শিকার হওয়া বক্সীরহাটের তৃণমূল নেতা তথা মহিষকুচি-২ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সহ-সভাপতি জাহানুদ্দিন আহমেদের অবশেষে মৃত্যু হল। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত এলাকায় ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস বা হিংসা ছড়ানো এবং বিভিন্ন অশান্তিমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগের জেরেই গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন।
গত ২১শে জুন তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাকলা টাটের কুটি এলাকার একটি পানীয় জলের পাম্প হাউসের ভেতর থেকে তাঁকে খুঁজে পায় ক্ষুব্ধ জনতা। তাঁর সন্ধান মেলা মাত্রই এতদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে পাম্প হাউস থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে।
খবর পেয়ে বক্সীরহাট থানার পুলিশ জখম অবস্থায় ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে কোচবিহারের বেসরকারি একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার পর, শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরিবারের লোককে জানান তাকে কোনভাবেই বাঁচানো যাবে না অবশেষে গতকাল পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং আজ তার বাড়িতেই মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় মৃতের দাদা নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান যে, রাজনৈতিক আক্রোশের জেরে কিছু দুষ্কৃতী তাঁর ভাইয়ের ওপর এই আক্রমণ চালিয়েছে। পরিবারের লোকজন বারবার অনুরোধ করলেও তারা মারধর বন্ধ করেনি। আইনের ওপর ভরসা রেখে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বক্সীরহাট থানার পুলিশ করা নজরদারী চালাচ্ছে।

