তুফানগঞ্জ, ১৪ মে :
দীর্ঘ ১৫ বছরের এক কঠিন ও নজিরবিহীন প্রতিজ্ঞার অবসান ঘটল কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জে। রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সংকল্প পূরণ করলেন তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের শালবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নাগুরহাট স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তথা একনিষ্ঠ বিজেপি কর্মী ধীরেন্দ্রনাথ রায়। ২০১৩ সাল থেকে নিজের চুল ও দাড়ি না কাটার যে শপথ তিনি নিয়েছিলেন, আজ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার পূর্ণতা পেল।
ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর পরিবার চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে তাঁর ওপর দফায় দফায় অত্যাচার চালানো হয় এবং তাঁর উপার্জনের একমাত্র পথ—দোকানটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায়, তিনি এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “যতদিন এই রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন তিনি চুল ও দাড়ি স্পর্শ করবেন না।”
দীর্ঘ ১৩ বছর সেই প্রতিজ্ঞা পালন করার পর, আজ ধীরেন্দ্রনাথ বাবু উৎসবের আমেজে মস্তক মুণ্ডন করেন। তবে এই অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কুশপুতুল তৈরি করে বাদ্যযন্ত্রসহকারে পুরো এলাকা পরিক্রমা করেন। এরপর হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতীকী শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করে তাঁর জমানো চুল ও দাড়ি কাটেন। এই উপলক্ষ্যে তিনি স্থানীয়দের জন্য দই-চিঁড়ে ও খিচুড়ি ভোজের বড়সড় আয়োজনও করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনেই এই পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধীরেন্দ্রনাথ বাবুর দীর্ঘদিনের মনের কষ্ট এবং প্রতিজ্ঞার আজ অবসান ঘটল।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রায় বলেন, “আমরা দেখলাম ধীরেন্দ্রনাথ রায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিজের আদর্শে অটল ছিলেন। তৃণমূলের অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, আজ তা পূর্ণ হলো। উনার এই নিষ্ঠা দেখে আমরাও অভিভূত।”
নিজেকে অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলের অর্থাৎ দলের জন্মলগ্ন থেকেই সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করা ধীরেন্দ্রনাথ রায় জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই জয়ই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নাগুরহাট এলাকায় এই ঘটনা এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

