কোচবিহার, ২৪ জুলাই:
দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করার অভিযোগের প্রতিবাদে কোচবিহারে প্রতীকী পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করল ছাত্র পরিষদ। শুক্রবার দুপুরে শহরের হরিণচওড়া রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ ও পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তৈরি হয় যানজট। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিন ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা হরিণচওড়া রেলগেটের কাছে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও দলীয় পতাকা। আন্দোলন চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। পথ অবরোধের ফলে ওই রাস্তায় চলাচলকারী ছোট-বড় যানবাহন কিছু সময়ের জন্য আটকে পড়ে। যদিও জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলে যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখেন আন্দোলনকারীরা।
ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বের দাবি, দিল্লির যন্তর-মন্তরে নিজেদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন ছাত্ররা। সেই আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন দমন করার জন্য অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আন্দোলনস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। ছাত্র পরিষদের বক্তব্য, একজন সাংবিধানিক পদমর্যাদাসম্পন্ন বিরোধী নেতার প্রতি এই ধরনের আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশে প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ছাত্রদের ন্যায্য দাবি শোনার পরিবর্তে তাঁদের উপর পুলিশি আক্রমণ চালানো এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়। এই ঘটনার প্রতিবাদেই সারা রাজ্যের পাশাপাশি কোচবিহারেও প্রতীকী পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, ভবিষ্যতেও যদি এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। ছাত্রদের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে বলেও জানানো হয়।
পথ অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে। নির্দিষ্ট সময় পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। যদিও অবরোধের জেরে কিছু সময়ের জন্য হরিণচওড়া রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাহুল গান্ধীকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। সেই ধারাবাহিকতাতেই কোচবিহারে ছাত্র পরিষদের এই প্রতীকী পথ অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

