জলপাইগুড়ি, ২ জুলাই:
নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ক্যাপসুল-সহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালী থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃত দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ক্যাপসুল উদ্ধার হওয়ায় গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে জলপাইগুড়ি শহরের বজরাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিল কোতোয়ালী থানার পুলিশ। সেই সময় সন্দেহজনকভাবে হেঁটে আসতে দেখা যায় এক দম্পতিকে। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাঁদের আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে মোট ৭০২টি নিষিদ্ধ ক্যাপসুল উদ্ধার হয়, যার মোট ওজন প্রায় ২৬১ গ্রাম।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত দম্পতির বাড়ি পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘাসিপাড়া এলাকায়। অভিযোগ, তারা শিলিগুড়ি থেকে এই নিষিদ্ধ ক্যাপসুল সংগ্রহ করে জলপাইগুড়ি শহরে নিয়ে আসছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই ক্যাপসুলগুলি মূলত এক শ্রেণির মানুষ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে এবং অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ ক্যাপসুলগুলি পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইন মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালী থানার পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্ত দম্পতি গত প্রায় ছয় মাস ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে তাদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এই নিষিদ্ধ ক্যাপসুল কোথা থেকে সংগ্রহ করা হত, কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই নেশার সামগ্রী সরবরাহের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার পেছনে কোনও বড় পাচারচক্র কাজ করছে কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় নেশার সামগ্রী পাচার ও বিক্রি রুখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

