দিনহাটা, ১২ জুন:
একসময়ের উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা জয়দ্বীপ ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও ঢিল ছোড়ার অভিযোগ উঠল। শুক্রবার দিনহাটা থানা থেকে আদালতে তোলার আগে তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত একদল মানুষ জয়দ্বীপ ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন এবং তাঁর শাস্তির দাবিতে স্লোগান তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট মামলায় মঙ্গলবার জয়দ্বীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে দিনহাটা থানার পুলিশ। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে দিনহাটা ভিলেজ-১ এলাকার বাসিন্দা মনসুর মিয়াকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, বাইকে করে এসে এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মনসুর মিয়ার উপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় মনসুর মিয়ার পায়ে আঘাত লাগে।
শুক্রবার ধৃত জয়দ্বীপ ঘোষকে দিনহাটা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু বামপন্থী রাজনীতির মাধ্যমে। পরে ২০১৫ সালে উদয়ন গুহ ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে তাঁর অনুগামী হিসেবে জয়দ্বীপ ঘোষও তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর দ্রুতই তিনি উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। সেই সময় দিনহাটা শহরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কও সামনে আসে।
তবে ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনের সময় উদয়ন গুহর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দু’জনের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন জয়দ্বীপ ঘোষ। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন, তবে দলে আর আগের মতো গুরুত্ব পাননি বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মসূচি বা মিছিল-মিটিংয়েও তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি।
দিনহাটা আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় বর্মন জানান, “২০২২ সালে মনসুর মিয়াকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জয়দ্বীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”

