জলপাইগুড়ি, ১৪ জুলাই:
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকিরাজোত এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্কে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় চিতাবাঘের চলাচলের খবর সামনে আসায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার একটি চা বাগান থেকে একটি গোরুর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর চিতাবাঘের উপস্থিতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার আমবাড়ি রেঞ্জের বনদপ্তর চিতাবাঘ ধরার জন্য চা বাগানের মধ্যে ছাগলকে টোপ হিসেবে রেখে একটি খাঁচা বসিয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন বাসিন্দা চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতির আশঙ্কার কথা বনদপ্তরকে জানিয়ে আসছিলেন। কয়েকজন দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে বন্যপ্রাণীর চলাচলও তাঁরা লক্ষ্য করেছেন। এরপর সোমবার একটি চা বাগান থেকে একটি গোরুর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর রায় জানান, কয়েকদিন আগে একটি বাছুরের ওপরও চিতাবাঘ হামলার চেষ্টা করেছিল বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকার মানুষ বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। চা বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বনদপ্তর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। এরপর রাজগঞ্জ থানার পুলিশের সহযোগিতায় এলাকায় নিয়মিত টহলদারি শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ করে ভোরবেলা ও সন্ধ্যার পরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে চা বাগান বা জঙ্গলের ভেতরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমবাড়ি রেঞ্জের বিট অফিসার ভূপেন্দ্রনাথ শীল জানান, সোমবার একটি গোরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, সেটি কোনও বন্যপ্রাণীর, সম্ভবত চিতাবাঘের আক্রমণে হয়েছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকায় খাঁচা বসানো হয়েছে। খাঁচায় একটি ছাগলকে টোপ হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে চিতাবাঘটি ধরা পড়লে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে উপযুক্ত বনাঞ্চলে স্থানান্তর করা যায়।
বনদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও খাঁচা বসানো হবে এবং নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে গুজব না ছড়ানোর এবং কোনও বন্যপ্রাণী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তর বা পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে চিতাবাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে জঙ্গল সংলগ্ন চা বাগান এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তাই বনদপ্তর বারবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
এখন এলাকাবাসীর নজর বনদপ্তরের অভিযানের দিকে। খাঁচায় চিতাবাঘ ধরা পড়ে কি না এবং পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়, সেটাই দেখার।

