শিলিগুড়ি, ১৬ জুন:
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর মাদকবিরোধী অভিযানে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। সেই নির্দেশকে সামনে রেখেই বুধবার এনজিপি সংলগ্ন এলাকার একাধিক মদের দোকানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায় এনজিপি থানার পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর বিশেষ পরিকল্পনা করে অভিযান চালানো হয়। এনজিপি থানার একটি বিশেষ দল এলাকায় পৌঁছে একাধিক মদের দোকান এবং তার আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তল্লাশি অভিযানে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করা হয়।
তল্লাশির এক পর্যায়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একাধিক ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ড্রামগুলির ভিতরে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মাদকদ্রব্য মজুত রাখা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেগুলি কী ধরনের মাদক এবং তার বাজারমূল্য কত, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বেআইনি মাদক কারবারের অভিযোগ উঠছিল। তবে এত বড় পরিমাণে মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই মাদক পাচার ও মজুতকরণের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছে, কারা এর মূল কারবারি এবং কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তদন্তের স্বার্থে একাধিক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের দাবি, রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবং মাদক চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে আগামী দিনেও আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের উৎস ও পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র ধরে এগোতে শুরু করেছেন।

