কোচবিহার, ২৫ জানুয়ারী :
কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহে নদীর ধারে খড়ি আনতে গিয়ে বাড়ির পাশের ষাটোর্ধ ব্যক্তির হাতে ধর্ষিত ১১ বছরের নাবালিকা। অভিযোগ ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হাত মুখ চিপে ধরে ধর্ষণ করা হয়। পাশের এক গৃহবধূর নজরে আসতেই সেই নাবালিকাকে উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে আসেন প্রতিবেশী সেই মহিলা। বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনা বাড়ির লোক জানলেও অভিযুক্তের হুমকিতে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেনি নির্যাতিতার বাবা। তবে বিষয় টি জানাজানি হতেও প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নির্যাতিতার পরিবারকে সাহস দিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ করতে জামালদহ ফাঁড়িতে যায় পরিবার। পরবর্তিতে নাবালিকার বাবা মেখলিগঞ্জ থানার উদ্দ্যেশ্যে রওনা দেন। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রচুর মানুষ জামালদহ ফাঁড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। নাবালিকার বক্তব্য, “আমি স্নান করে বাড়ির পাশের নদীর ধারের জঙ্গলে রাখা খড়ি আনতে গিয়েছিলাম। সেই সময় আমাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মুখ চিপে ধরে ধর্ষণ করে।”
“প্রত্যক্ষদর্শী গৃহবধূর দাবি,”আমি ঘটনাস্থলে না গেলে হয়তো বাচ্চা মেয়েটিকে মেরেই ফেলতো।” ঘটনার পর নাবালিকা মেয়েটি আতঙ্কে রয়েছে। তাই ভয়ে লিখিত অভিযোগ আগে করেনি দাবি নির্যাতিতার বাবার। তার দাবি,”আমি চাই সন্তানসম মেয়ের সঙ্গে যে অপকর্ম করলো এক ষাটোর্ধ ব্যক্তি তার কঠিন সাজা হোক।”
অন্যদিকে এনিয়ে মাথাভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন,”অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”
অপরদিকে এই ঘটনায় জামালদহ পুলিশ ক্যাম্পের সামনে সন্ধ্যা থেকেই উত্তেজিত জনতা ভিড় করতে থাকে। দোষীর শাস্তির দাবিতে একযোগে সরব হয়েছেন গ্রামের মহিলারাও।
নাবালিকা ধর্ষনের ঘটনায় শনিবার রাতে জামালদহে টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ, যার জেরে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ হয়ে থাকে যান চলাচল। অবরোধ কারী দের সাথে কথা বলার সময় তাদের ছোড়া পাথরে আক্রান্ত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ। এর পরেই চলে পুলিশের লাঠিচার্জ। মুহুর্তের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে অবরোধকারীরা। বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। মাথভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে চলে টহল। বর্তমানে এলাকা থমথমে রয়েছে। অপরদিকে নাবালিকা ধর্ষনের ঘটনায় রবিবার ১২ ঘণ্টার ডাক দিয়েছে জামালদহ সচেতন নাগরিক মঞ্চ।

