তুফানগঞ্জ, ৬ এপ্রিল :
কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সেরে ফেরার পথে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিতে হামলার অভিযোগে গতকাল রাতে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল তুফানগঞ্জের মারুগঞ্জ ও দেওচড়াই এলাকা। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বিজেপি কর্মী বিশ্বেশ্বর বর্মনের অবস্থা আশঙ্কা জনক থাকায় তিনি তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে, সোমবার তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কর্মীকে দেখতে ছোটেন তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী মালতি রাভা রায়।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষ করে তুফানগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি কর্মীরা যখন বাস ও ছোট গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের মারুগঞ্জ এলাকায় তাঁদের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালানো হয়। বেশ কিছু গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটকে পড়া গাড়িগুলি উদ্ধার করে।
মারুগঞ্জের রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় উত্তেজনা ছড়ায় দেওচড়াই মোড় টোল গেট এলাকায়। অভিযোগ, সেখানে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি লক্ষ্য করে নতুন করে ঢিল ছোড়া হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়ে পথ অবরোধ শুরু করেন। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের আশ্বাসে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
আজ হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিজেপি প্রার্থী মালতি রাভা রায়। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা করেছে। তৃণমূল ভয় পেয়েছে, তাই নিরস্ত কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে। যতই হামলা হোক, এবার বিজেপি বাংলা দখল করবে।”
যদিও কিন্তু হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ তন্ত্রী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের উস্কানিতে বিজেপি কর্মীরাই হামলার চেষ্টা করে। শান্ত মারুগঞ্জকে অশান্ত করতে বিজেপিই প্ররোচনা দিচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

