শিলিগুড়ি, ২৫ আগস্ট
বর্ষার দাপটে ফের বিপর্যস্ত শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ। দুধিয়া এলাকায় প্রবল জলের তোড়ে হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় কার্যত সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সেতুর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুধিয়া এলাকায় জলস্তর বাড়ার পাশাপাশি পাহাড়ি জলের প্রবল স্রোতের চাপেই হিউম পাইপের সেতুটির একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বাস ও ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ছোট গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ফলে ছোট গাড়িতে কোনওরকমে যাতায়াত করা সম্ভব হলেও বড় গাড়ির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। শুধু সাধারণ যাত্রীই নয়, এই রুটে নিয়মিত একাধিক সরকারি বাসও চলাচল করে। কিন্তু সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে আপাতত সেই সরকারি বাস পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
কবে ফের স্বাভাবিক হবে বাস পরিষেবা? কতদিন ধরে চলবে এই দুর্ভোগ? আপাতত তার কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকারি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্ষার সময় দুধিয়া এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় জল ও প্রবল স্রোতের কারণে রাস্তা ও সেতুর উপর বারবার চাপ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাময়িকভাবে মেরামত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই নতুন করে বিপত্তি দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা না করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবহণ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। ভেঙে যাওয়া সেতুটি দ্রুত মেরামত করে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে সরকারি বাস পরিষেবা কবে ফের চালু হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
বর্ষার মাঝেই ফের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এবার কি স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটবে প্রশাসন, নাকি সাময়িক মেরামতির পর ফের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী বিপর্যয়ের?

