শিলিগুড়ি ,৬ জুলাই
সঞ্চয়ের টাকায় গড়ে তুলছেন শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছা শিলিগুড়ির ভাস্করের
অর্থের অভাব থাকলেও শিল্পের প্রতি ভালোবাসায় কোনও খামতি নেই। নিজের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেই ধীরে ধীরে টাকা জমিয়ে একের পর এক ভাস্কর্য নির্মাণ করে চলেছেন শিলিগুড়ির শান্তিনগরের বাসিন্দা স্বপন কুমার খাঁ। দীর্ঘদিন ধরে ভাস্কর্য শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী বর্তমানে ফাইবার গ্লাসে তৈরি করছেন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি মূর্তি। তাঁর ইচ্ছা, এই ভাস্কর্যটি বিক্রি না করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেওয়া।
ছোটবেলা থেকেই শিল্পকলার প্রতি ছিল স্বপনবাবুর প্রবল আগ্রহ। আঁকাআঁকির মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরে তিনি পেশাগতভাবে ভাস্কর্যের জগতে প্রবেশ করেন। আর্ট কলেজে পড়াশোনার পর গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের মূর্তি ও শিল্পকর্ম তৈরি করে আসছেন। বিশেষ করে ফাইবার গ্লাসের বাস্তবধর্মী মূর্তি নির্মাণে তাঁর দক্ষতা স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এর আগে তিনি নিজের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফাইবার গ্লাসের মূর্তি তৈরি করেছিলেন। সেই মূর্তিটি তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জির মাধ্যমে উপহার হিসেবে তুলে দেন। এবার আরও বড় আকারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি নির্মাণের কাজ করছেন। মূর্তিটির অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং তা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই।
স্বপন কুমার খাঁর কথায়, “আমি শিল্পকে ভালোবেসে এই কাজ করি। অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে মূর্তি তৈরি করি। এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিটি শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। একজন শিল্পীর শ্রম ও অনুভূতির মূল্য তিনি দেবেন বলেই আশা করছি। পাশাপাশি ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের জন্য সরকারি স্তরে আরও সুযোগ ও সহায়তা বাড়ুক, সেটাও চাই।”
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজের সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রেখে কাজ করে চলেছেন স্বপনবাবু। তাঁর কাছে প্রতিটি ভাস্কর্য শুধু শিল্পকর্ম নয়, বরং দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য এবং স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ। সেই কারণেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই মূর্তি এখন তাঁর কাছে এক বিশেষ আবেগের সৃষ্টি, যা তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান নিজের শিল্পের মাধ্যমে।

