আলিপুরদুয়ার, ২৮ জুন:
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে তোর্ষা নদী। জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙনও ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর জেরে আলিপুরদুয়ারের সুভাষিনী চা বাগান এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক চা গাছ ও বাগানের বিস্তীর্ণ জমি তোর্ষার গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়তে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চা বাগানের শ্রমিকরা এবং বাগান কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির ফলে তোর্ষা নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর স্রোত যত বাড়ছে, ততই তীব্র হচ্ছে ভাঙন। ইতিমধ্যেই সুভাষিনী চা বাগানের বহু বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়েছে অসংখ্য চা গাছ, যার ফলে বাগানের উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, নদীর ভাঙন এখন শ্রমিক মহল্লার দিকেও দ্রুত এগিয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, নদী বর্তমানে শ্রমিক আবাসনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ভাঙনের গতি যদি এভাবেই অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী দিনে শ্রমিকদের বসবাসও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চা বাগানের কয়েকশো শ্রমিক পরিবারের মধ্যে।
চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুভাষিনী এলাকার এই অংশে তোর্ষা নদীর তীরে কোনও স্থায়ী বাঁধ বা কার্যকর নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতি বর্ষাতেই নদী ধীরে ধীরে জমি গ্রাস করলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, যথাযথ বাঁধ নির্মাণ ও নদীতীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এত বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।
এলাকাবাসী এবং বাগান কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের আবেদন, অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে আরও জমি, চা গাছ এবং শ্রমিক মহল্লা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে তোর্ষার ক্রমবর্ধমান ভাঙন ঘিরে গোটা সুভাষিনী চা বাগান এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

