শিলিগুড়ি, ১৯ জুন:
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল পাহাড় ও সমতলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবার সকালে আকস্মিকভাবে জলস্তর বৃদ্ধি পায় বালাসন নদী-তে। নদীর প্রবল স্রোতের ধাক্কায় দুধিয়া এলাকায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। এর জেরে দুধিয়া হয়ে শিলিগুড়ি ও মিরিক-এর মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, পাশাপাশি উদ্বেগ বেড়েছে পর্যটকদের মধ্যেও।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে দুধিয়ার মূল সেতুটি ভেঙে পড়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে হিউম পাইপ বসিয়ে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই পথই ছিল মিরিক, সুখিয়াপোখরি এবং সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রতিদিন কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটক— সকলেই এই রুট ব্যবহার করতেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতার বর্ষণে বালাসনের জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে নদীর তীব্র স্রোত অস্থায়ী কাঠামোটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে যোগাযোগে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বহু যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়েছে এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ি শহরের একাধিক এলাকায় জল জমার খবর পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গ জুড়ে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সেই কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প রুট ব্যবহার করে যাতায়াতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
প্রবল বর্ষণের এই দাপটে ফের একবার সামনে এল উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভঙ্গুর বাস্তবতা। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কবে আবার শিলিগুড়ি–মিরিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, সেদিকেই।

