সিতাই, ৩০ জুন:
কোচবিহারের সিতাইয়ে মধ্যরাতে বিজেপি নেতা তথা সিতাই বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ বর্মার বাড়িতে চার যুবকের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, গভীর রাতে ওই চার যুবক তাঁর বাড়িতে দেখা করতে আসে। নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিতাই থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় চারজনকেই আটক করে পরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম চিরঞ্জিত বর্মন, বিষ্ণুচন্দ্র বর্মন, জয়দেব বর্মন এবং জগৎচন্দ্র পাল। এদের মধ্যে চিরঞ্জিত বর্মনের কাছ থেকেই একটি দেশি বন্দুক এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সোমবার আশুতোষ বর্মার নেতৃত্বে বিজেপির এক প্রতিনিধিদল দিনহাটা মহকুমাশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেই স্মারকলিপিতে সিতাই বিধানসভার বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের তফসিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র বাতিলের দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপি জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর গভীর রাতে কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করতে চায় বলে দাবি করা হয়েছে।
আশুতোষ বর্মার বক্তব্য, রাতের বেলা ওই যুবকেরা ফোন করে জানায়, তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ভাগ করে নিতে চায়। তাঁদের দাবি ছিল, আশুতোষ বর্মার অনেক শত্রু রয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত কিছু তথ্য তাঁকে জানানো প্রয়োজন। সেই কারণেই তারা রাতেই দেখা করতে আসে।
বিজেপি নেতা আশুতোষ বর্মা বলেন, “সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের এসসি সার্টিফিকেট বাতিলের দাবিতে আমরা মহকুমাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। রাতে কয়েকজন যুবক আমাকে ফোন করে দেখা করতে চায়। তারা মধ্যরাতে বাড়িতে আসে। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিরাপত্তারক্ষী তাদের আটকে রাখেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে একজনের কাছ থেকে একটি বন্দুক ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
খবর পেয়ে সিতাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কী উদ্দেশ্যে ওই যুবকেরা গভীর রাতে অস্ত্র নিয়ে বিজেপি নেতার বাড়িতে এসেছিল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র ছিল কি না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অন্য কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিতাই এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সিতাই থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

