শিলিগুড়ি, ২ সেপ্টেম্বর
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময়। তবুও এখনও মোবাইল টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করছেন এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। শিলিগুড়ির হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন এলাকায় বুধবারের এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সময় যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ।
যুবককে নিরাপদে নিচে নামাতে এবার কার্যত হাইভোল্টেজ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে SDRF-এর বিশেষ দল, পুলিশের QRT এবং দমকল বাহিনী। পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন বনদফতরের আধিকারিকরাও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে টাওয়ারের চারপাশে নিরাপত্তাজাল বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে উদ্ধার অভিযানের সময় কোনওভাবে যুবক নিচে পড়ে গেলে বড় বিপদ এড়ানো যায়।
কিন্তু এতক্ষণেও কেন উদ্ধার করা যাচ্ছে না তাঁকে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে হাসপাতাল মোড়ে। টাওয়ারের উচ্চতা এবং যুবকের অবস্থানের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলিকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। উপস্থিত রয়েছেন ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ এবং এসিপি ট্রাফিক সুবীর দত্ত-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। গোটা এলাকা পুলিশি নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের কাজ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছে আরও এক বিশেষ উদ্যোগ। দুই বিশেষ পর্বতারোহী স্বেচ্ছায় ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা নিজেরাই টাওয়ারে উঠে ওই যুবকের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের মাধ্যমে যুবককে নিরাপদে নিচে নামানোর পথ খোঁজা হচ্ছে।
শুধু টাওয়ারের উপর থেকেই নয়, আকাশপথেও চলছে নজরদারি। ড্রোন উড়িয়ে যুবকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টাওয়ারের উপরে তাঁর অবস্থান এবং উদ্ধার অভিযানের পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখছেন আধিকারিকরা।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে। আচমকাই স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে, একটি মোবাইল টাওয়ারের অনেকটা উপরে উঠে রয়েছেন এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। কিন্তু কীভাবে তিনি সেখানে উঠলেন? কেনই বা এতক্ষণ ধরে টাওয়ারের চূড়ায় রয়েছেন? এই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।
স্থানীয়দের দাবি, যুবককে টাওয়ারে উঠতে কেউ দেখেননি। আচমকাই তাঁকে টাওয়ারের উপরে দেখতে পান এলাকার মানুষ। ফলে তাঁর পরিচয় থেকে শুরু করে টাওয়ারে ওঠার কারণ—সবকিছুই এখনও রহস্যের আবরণে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলায় হাসপাতাল মোড় এলাকায় মানুষের ভিড়ও ক্রমশ বাড়ছে। ঘটনাস্থলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বহু মানুষ। তবে প্রশাসনের তরফে বারবার সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার আবেদন জানানো হচ্ছে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে উদ্ধার অভিযান। টাওয়ারের এতটা উপরে থাকা যুবককে নিরাপদে নামানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কতক্ষণে শেষ হবে এই অপারেশন? শেষ পর্যন্ত কি নিরাপদে নিচে নামানো সম্ভব হবে ওই যুবককে? আপাতত সেই অপেক্ষাতেই গোটা হাসপাতাল মোড়।
প্রশাসন ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থার একটাই লক্ষ্য—কোনও ঝুঁকি না নিয়ে যুবককে জীবিত ও নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা। SDRF, পুলিশ, দমকল, বনদফতর এবং দুই পর্বতারোহীর যৌথ প্রচেষ্টায় রাতেও জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান।

