মাদারিহাট, ২ সেপ্টেম্বর
রাইস মিল থেকে চুরি গিয়েছিল বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। আর তদন্ত এগোতেই গ্রেফতার হল দুই ব্যক্তি। তাঁদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২ কেজি তামার তার। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাদারিহাটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মাদারিহাট থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের হয়। পূর্ব মাদারিহাটের ১২ মাইল কালীবাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি রাইস মিল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম চুরি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
রাইস মিলের মালিক সিদ্ধার্থ আগরওয়ালের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে মাদারিহাট থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই প্রশান্ত বর্মন। তদন্তে নেমে পুলিশ পূর্ব মাদারিহাটের ১২ মাইল কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা মাহান্ত এবং কর্ণ মাহান্তকে গ্রেফতার করে।
এরপর ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রায় ১২ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এখানেই কি শেষ? উদ্ধার হওয়া তামার তারই কি রাইস মিল থেকে চুরি যাওয়া সরঞ্জামের অংশ? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? আপাতত এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। পাশাপাশি এই চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাইস মিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে দুষ্কৃতীরা সেখানে ঢুকেছিল এবং চুরি করা সামগ্রী কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই তথ্যও সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই ব্যক্তির গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ তামার তার উদ্ধারের পর তদন্তে গতি এসেছে। তবে এই চুরির নেপথ্যে আরও কারও হাত রয়েছে কি না, কিংবা উদ্ধার হওয়া সামগ্রীই বা চুরি যাওয়া জিনিসের সঙ্গে কতটা যুক্ত—এখন সেই উত্তর খুঁজছে মাদারিহাট থানার পুলিশ।

