জলপাইগুড়ি, ২৮ জুন:
রক্তের সংকট দূর করার পাশাপাশি মানবসেবার বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে রবিবার জলপাইগুড়ি দিশারী ক্লাব এবং লায়ন্স ক্লাব অফ জলপাইগুড়ি সেবার যৌথ উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। জলপাইগুড়ি শহরের দিশারী ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শিবিরে ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের বহু স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান করেন। তাঁদের উৎসাহী অংশগ্রহণে শিবিরটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শিবিরটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল মহারাজা অগ্রসেন লায়ন্স ব্লাড সেন্টারের প্রতিনিধি দল। রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্ত সংগ্রহ এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে রক্তদাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দিশারী ক্লাবের ট্রেজারার মিঠুন চৌধুরী জানান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সারা বছর ধরে ক্লাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ নানা ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নিয়মিত গ্রহণ করে ক্লাব। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বিগত বছরের মতো এ বছরও স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই শিবির থেকে প্রায় ১০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত রক্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড সেন্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রোগীদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আশা, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এই ধরনের মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
আয়োজকদের মতে, একটি ইউনিট রক্ত একাধিক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই রক্তদান শুধুমাত্র একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার অন্যতম বড় সেবা। এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিনের শিবিরে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহজনক অংশগ্রহণ আয়োজকদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে।
রক্তদাতারাও জানান, স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ উদ্যোগ। সুস্থ মানুষ নিয়মিত রক্তদান করলে যেমন অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব, তেমনি রক্তদাতার স্বাস্থ্য পরীক্ষারও সুযোগ হয়। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগে তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবীরা।

