শিলিগুড়ি, ২ জুলাই:
শহরের প্রধান সড়কে ই-রিক্সা বা টোটো চলাচলের অনুমতি, সকল চালকের লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ এবং নম্বর প্লেটহীন টোটোগুলিকে দ্রুত নম্বর প্লেট দেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে সামিল হলেন সিআইটিইউ (CITU) অনুমোদিত ই-রিক্সা চালক ইউনিয়নের সদস্যরা। মিছিল করে তাঁরা শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের (এসডিও) দফতরে পৌঁছে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমানে শিলিগুড়ি শহরের অধিকাংশ প্রধান সড়কে টোটো চলাচলের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে বৈধ লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নম্বর প্লেট থাকা সত্ত্বেও বহু চালককে শহরের মূল রাস্তায় চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, শুধুমাত্র পকেট রোড বা অভ্যন্তরীণ রাস্তায় টোটো চালানোর অনুমতি থাকায় পর্যাপ্ত যাত্রী মিলছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের দৈনিক আয়ের ওপর।
চালকদের বক্তব্য, শিলিগুড়ির মতো একটি দ্রুত বর্ধনশীল শহরে ই-রিক্সা সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহণে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক, বাজারগামী মানুষ এবং নিত্যযাত্রীদের একটি বড় অংশ টোটোর ওপর নির্ভরশীল। তাই মূল সড়কে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিতভাবে টোটো চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে যাত্রীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনই চালকদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালকদের আরও অভিযোগ, এখনও বহু টোটো প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকারি নম্বর প্লেট পায়নি। একইভাবে অনেক চালকের লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান না হলে তাঁদের পক্ষে আইন মেনে পরিষেবা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউনিয়নের নেতাদের বক্তব্য, শিলিগুড়িতে হাজার হাজার পরিবার ই-রিক্সা চালানোর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বহু বেকার যুবক ঋণ নিয়ে টোটো কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু চলাচলের বিধিনিষেধ, লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁরা প্রতিনিয়ত আর্থিক সংকটে পড়ছেন। প্রশাসনের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।
স্মারকলিপিতে তাঁদের তিনটি প্রধান দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে—
- শহরের প্রধান সড়ক-সহ সমস্ত উপযুক্ত রাস্তায় নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-রিক্সা চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
- সকল যোগ্য চালকের লাইসেন্স দ্রুত প্রদান ও নবীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
- যেসব টোটো এখনও সরকারি নম্বর প্লেট পায়নি, সেগুলিকে দ্রুত নম্বর প্লেট প্রদান করতে হবে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দাবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
এসডিও দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে চালকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। প্রয়োজনে টোটো ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচিও গ্রহণ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা।
এখন প্রশাসন টোটো চালকদের এই দাবিগুলির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে চালক মহল এবং সাধারণ যাত্রীদের।

