আলিপুরদুয়ার, ১০ জুলাই:
গভীর রাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ল একটি বুনো হাতি। শনিবার রাত প্রায় ২টা নাগাদ আলিপুরদুয়ারের ভরনোবাড়ি চা বাগানের আনন্দ লাইনে হাতিটির তাণ্ডবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাতির হামলায় দুটি বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় এক মহিলা আহত হন। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বুনো হাতি চা বাগানের শ্রমিক লাইনে ঢুকে পড়ে। প্রথমে হাতিটি আনন্দ ওরাওঁর বাড়িতে হামলা চালায়। প্রবল শক্তিতে বাড়ির মূল গেট ভেঙে ফেলে এবং রান্নাঘরের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় পরিবারের সদস্যদের। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা দ্রুত বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
এরপর হাতিটি পাশের বাসিন্দা মালা বেগমের বাড়ির সামনের অংশেও ভাঙচুর চালায়। বাড়ির সামনে থাকা কাঠামো এবং কিছু সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। হাতির তাণ্ডবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা আনন্দ লাইনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন বহু বাসিন্দা। কেউ নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, আবার কেউ রাতের অন্ধকারেই পরিবার-পরিজনকে নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
এই সময় হাতিটিকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন এক মহিলা। দৌড়ানোর সময় তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আশপাশের বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভরনোবাড়ি চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই বুনো হাতির আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে বর্ষাকাল ও খাদ্যের অভাবের সময় হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসে। তবে এভাবে গভীর রাতে শ্রমিক লাইনে ঢুকে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা বিরল বলেই দাবি বাসিন্দাদের।
বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মানুষ-হাতি সংঘাত একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি, হাতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দ্রুত বনদপ্তরের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, রাতের বেলায় হাতির হানা অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি হাতিটির গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের রাতে একা বাইরে না বেরোনোর, হাতি দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার এবং কোনও অবস্থাতেই হাতিটিকে উত্যক্ত না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর আশা, বনদপ্তর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতও কমবে।

