জলপাইগুড়ি, ১৪ জুলাই:
স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি একাধিক সরকারি প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের সদস্যরা। মঙ্গলবার সংগঠনের ডাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা কর্মীরা জলপাইগুড়ি শহরে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করেন। পরে জেলা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং নিজেদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের মূল দায়িত্ব হল গ্রাম ও শহরতলির সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের পরিচর্যা, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, টিকাকরণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা, পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য দপ্তরকে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দায়িত্বের বাইরে একাধিক প্রশাসনিক ও অ-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজও তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সংগঠনের দাবি, বর্তমানে আশা কর্মীদের দিয়ে আয়ুষ্মান প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনলাইন ডেটা এন্ট্রি, নথিপত্র তৈরিসহ একাধিক অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ করানো হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের কর্মঘণ্টা যেমন বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল কাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আশা কর্মীরা বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতিরিক্ত সরকারি কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে তাঁরা চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই ডিজিটাল বা কারিগরি কাজ করতে হচ্ছে, যার ফলে কাজের মানের ওপরও প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, আশা কর্মীদের ওপর অ-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং তাঁদের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হোক। পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নত করা, কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়েও সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী আশা কর্মীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিল করেন। পরে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের দাবিগুলি পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানান। স্মারকলিপিতে মূলত অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো, স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আশা কর্মীদের পেশাগত দায়িত্বের স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
আশা কর্মী পূর্ণিমা দাস ঘোষ বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করি। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্ব আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের মূল কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই, আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হোক এবং অ-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।”
সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি তাঁদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার বিষয়েও তাঁরা চিন্তাভাবনা করবেন।

