কোচবিহার, ৪ জুলাই:
দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতীয় জনগণনা। ২০২৭ সালের জনগণনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোচবিহার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ। জেলা শাসকের নির্দেশে কোচবিহারের ল্যান্সডাউন হল প্রাঙ্গণে ২৯ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ফিল্ড ট্রেনারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হল জনগণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের আধুনিক ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা এবং নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। আগামী জনগণনায় আর প্রচলিত খাতা-কলমের ব্যবহার থাকবে না। পরিবর্তে বিশেষভাবে তৈরি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে তথ্য সংগ্রহের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে বলে প্রশাসনের আশা।
ভারতে প্রথম জনগণনা শুরু হয় ১৮৭২ সালে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের জনগণনা হবে দেশের ১৬তম জনগণনা এবং স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। এই পরিবর্তনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণনা ব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে যে প্রশিক্ষণ চলছে, তার মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জনগণনার প্রথম ধাপ ‘গৃহতালিকা ও আবাসন গণনা’ (Houselisting & Housing Census)-এর ওপর। এই ধাপে প্রতিটি বাড়ি, আবাসন, পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ফিল্ড ট্রেনারদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার, তথ্য এন্ট্রি, যাচাই প্রক্রিয়া, তথ্য সুরক্ষা এবং সরকারি নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পর এই ফিল্ড ট্রেনাররাই জেলার বিভিন্ন চার্জ এলাকায় গিয়ে গণনাকারী (Enumerator) ও তত্ত্বাবধায়কদের (Supervisor) প্রশিক্ষণ দেবেন। এর ফলে জনগণনার প্রতিটি স্তরে একই মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হবে এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একরূপতা বজায় থাকবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
মাস্টার ট্রেনার দীপক মণ্ডল জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই জনগণনার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। কোচবিহারেও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এবার প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন খাতা-কলমে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও এবার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য সরাসরি ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা হবে। এর ফলে তথ্য সংগ্রহ আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ হবে।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিকে সফল করতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন, জনসংখ্যার পরিবর্তনের বিশ্লেষণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে এই জনগণনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জনগণনা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

