জলপাইগুড়ি, ১৪ জুলাই:
উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাক্তন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) তথা ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জলপাইগুড়ি শাখার প্রাক্তন সম্পাদক ডাঃ সুশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে আইএমএ জলপাইগুড়ির বর্তমান কমিটি। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলার স্বাস্থ্য মহল ও চিকিৎসক সংগঠনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আইএমএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাঃ সুশান্ত রায় উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরের ওএসডি এবং আইএমএ জলপাইগুড়ি শাখার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যদিও অতীতে বিভিন্ন মহলে এই ধরনের অভিযোগের কথা শোনা গিয়েছিল, এবার প্রথমবারের মতো বর্তমান আইএমএ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ডাঃ রায়ের দায়িত্বকালীন সময়ে অর্থের বিনিময়ে বদলি (ট্রান্সফার) প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি কাজের আর্থিক লেনদেন এবং অডিট সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইএমএ।
আইএমএ জলপাইগুড়ির বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য, অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে এলে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইএমএ জলপাইগুড়ি শাখায় নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অতীতের বিভিন্ন আর্থিক ও সাংগঠনিক বিষয় খতিয়ে দেখা শুরু করে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই প্রাক্তন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্তের দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আইএমএ-র পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; অভিযোগগুলি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে ডাঃ সুশান্ত রায়ের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তদন্ত শুরু হয় কি না এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে চিকিৎসক মহল ও প্রশাসনিক মহলের। অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

