শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই:
‘জয় বড়মা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। ভক্তদের উৎসাহ, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিলিগুড়ির নিউ পাল পাড়ার মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে চতুর্থ বর্ষের বড়মা কালীপুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হল মহাসমারোহে। এই শুভ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল এবারের বহুল প্রতীক্ষিত বড়মা কালীপুজোর প্রস্তুতি।
খুঁটিপুজোর দিন সকাল থেকেই ক্লাব প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুরোহিতের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজার্চনা, পুষ্পাঞ্জলি এবং ‘জয় বড়মা’ ধ্বনিতে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, শুভানুধ্যায়ী এবং বহু ভক্ত এই শুভক্ষণে উপস্থিত থেকে বড়মার আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের বিপুল সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও ২৭ ফুট উচ্চতার বিশাল বড়মা কালী প্রতিমা নির্মাণ করা হবে, যা এবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে। শিল্পীদের নিখুঁত কারুকার্যে তৈরি এই বিশাল প্রতিমা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রতিমা নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
শুধু প্রতিমাই নয়, এবারের পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নেওয়া হয়েছে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ। পুজোর প্রতিটি দিন ভক্তদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশনা, নৃত্য এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা, সুসজ্জিত মণ্ডপ এবং নান্দনিক পরিবেশ, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছে উদ্যোক্তারা। শুধুমাত্র শিলিগুড়ি নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী বড়মার দর্শনে আসবেন বলে মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দুলাল পাল বলেন, “বড়মা কালীপুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য এবং মিলনমেলার প্রতীক। গত কয়েক বছরে মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা পেয়েছি, তা আমাদের আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই প্রতি বছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। এবছরও ২৭ ফুটের বিশাল বড়মার প্রতিমা, বিশেষ প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সকল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং বড়মার আশীর্বাদ নিয়েই আমরা এই আয়োজনকে সফল করে তুলতে চাই।”
খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বড়মা কালীপুজো এখন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এলাকার অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এই পুজোকে ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, এবারের বড়মা কালীপুজোও আগের বছরের সমস্ত সাফল্যকে ছাপিয়ে যাবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য, শিল্পসৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য সমন্বয়ে মহামায়া স্পোর্টিং ক্লাবের বড়মা কালীপুজো আবারও উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব হিসেবে নিজস্ব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবে।

