শিলিগুড়ি, ২০ জুলাই:
রেলের জমিতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিশের প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করল সিপিআই(এম) এবং তাদের সহযোগী গণসংগঠনগুলি। পূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনওভাবেই উচ্ছেদ করা চলবে না—এই দাবিকে সামনে রেখে টিকিয়াপাড়া মাঠ থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশ নেন এলাকার বহু মহিলা, পুরুষ, শ্রমজীবী ও খেটে-খাওয়া মানুষ। পরে মিছিলটি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বিভাগীয় আইডব্লিউ (IW) অফিসের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রেলের জমিতে বসবাসকারী হাজার হাজার গরিব পরিবারের মাথার উপর এখন উচ্ছেদের খাঁড়া নেমে এসেছে। তাঁদের দাবি, যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক। বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম)-এর জেলা নেতৃত্ব জয় চক্রবর্তী, তুফান দত্তাচার্য, সৌরভ সরকার, সঞ্জীব সরকার-সহ অন্যান্য নেতারা। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সঞ্জীব সরকার বলেন, “এই মানুষগুলো কয়েক যুগ ধরে রেলের জমিতে বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেরই ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, আধার কার্ডসহ সমস্ত সরকারি নথি এই ঠিকানায় রয়েছে। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা মানবিক নয়। আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু উন্নয়নের নামে গরিব মানুষকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রেলের জমি থেকে গরিব মানুষকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই নীতির বিরুদ্ধে এদিন স্মারকলিপি জমা দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বসতি, সংসার এবং জীবিকা এক মুহূর্তে কেড়ে নেওয়া হলে তাঁরা কোথায় যাবেন, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তাঁরা। এলাকাবাসীদের দাবি, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধিতা করছেন না। তবে উন্নয়নের নামে গরিব মানুষকে গৃহহীন করে দেওয়া উচিত নয়। প্রথমে বিকল্প বাসস্থান ও পূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর উন্নয়নের কাজ এগোতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। প্রয়োজনে লাগাতার গণআন্দোলনের পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিপিআই(এম)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

