জলপাইগুড়ি, ১৮ জুন:
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে জলপাইগুড়ি জেলায় একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। যোগব্যায়ামের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসক দপ্তরের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচিগুলির বিস্তারিত ঘোষণা করেন জেলা শাসক সন্দীপ কুমার ঘোষ।
সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা শাসক জানান, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়ে যেমন বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তেমনই জলপাইগুড়ি জেলাতেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করা হবে। তিনি বলেন, এবারের যোগ দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও বৃহৎ পরিসরে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা শাসক জানান, ২১ জুন কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অংশগ্রহণ করবেন। সেই অনুষ্ঠানের সমান্তরালে জলপাইগুড়ির সাই কমপ্লেক্সেও সকাল থেকেই যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। সেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ প্রশিক্ষক, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে শুধু মূল অনুষ্ঠানই নয়, এর আগে থেকেই সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল মাল মহকুমায় একটি ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুব সমাজকে যোগ ও শরীরচর্চার প্রতি আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সাংস্কৃতিক কক্ষে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। জেলার শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা শাসক বলেন, যোগব্যায়াম শুধুমাত্র শরীরকে সুস্থ রাখার একটি মাধ্যম নয়, এটি মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইতিবাচক জীবনযাপনেরও অন্যতম উপায়। বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও যোগব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে মানুষ আরও উৎসাহিত হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমস্ত কর্মসূচিতে জেলার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা আরও শক্তিশালী হবে এবং জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।

