কোচবিহার, ২৬ জুলাই:
ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে কোচবিহারে বিক্ষোভ মিছিল করল ডিওয়াইএফআই (ডেমোক্র্যাটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া)। “তরুণের জয়” স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনের পক্ষ থেকে শহরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী ও সংগঠনের কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল সংগঠনের পতাকা, ব্যানার এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। ছাত্র আন্দোলনের সাফল্যকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্লোগান তোলেন আন্দোলনকারীরা।
ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের দাবি, দেশের ছাত্র-যুব সমাজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। তাঁদের মতে, সেই ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের ফলেই কেন্দ্রীয় সরকার চাপের মুখে পড়ে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনাকে ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেই ব্যাখ্যা করেছে সংগঠন।
মিছিল শেষে সংগঠনের নেতারা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করা, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই আগামী দিনেও আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তাঁরা।
ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে তারা মনে করে না। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ ছাত্র-যুব সমাজকে এই আন্দোলনে আরও বেশি করে শামিল হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
এদিনের মিছিলে “তরুণের জয়”, “শিক্ষা বাঁচাও, ভবিষ্যৎ বাঁচাও”, “স্বচ্ছ নিয়োগ চাই” এবং “কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে”—সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কোচবিহার শহর। সংগঠনের দাবি, ছাত্র-যুবদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং গণস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে আগামী দিনেও রাজ্যজুড়ে তাদের আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে।

