শিলিগুড়ি ,১ আগস্ট
ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ১০৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হলো শিলিগুড়িতে
বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলের ১০৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করল শিলিগুড়ি ইস্ট বেঙ্গল ফ্যান ক্লাব। শনিবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব, চিকিৎসক ড. সন্দীপ সেনগুপ্ত, ইস্ট বেঙ্গল ফ্যান ক্লাবের সদস্য, প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলার এবং অসংখ্য লাল-হলুদ সমর্থক।
অনুষ্ঠানের সূচনায় অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এরপর ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা এবং প্রতিষ্ঠা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি এলাকার প্রতিভাবান নতুন ফুটবলারদের হাতে ফুটবল ও ক্রীড়া সামগ্রী (কিট) তুলে দেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। আয়োজকদের মতে, আগামী প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আরও উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শংকর ঘোষ বলেন, “ফুটবল বাঙালির আবেগ, বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সেই ফুটবলের ইতিহাসে ইস্ট বেঙ্গল ও মোহনবাগান দুটি এমন নাম, যাদের ছাড়া বাংলার ক্রীড়া-সংস্কৃতিকে কল্পনা করা যায় না। একটিকে যদি অক্সিজেন বলা যায়, অন্যটি জল—এই দুইয়ের ওপর ভর করেই বাঙালির ফুটবলপ্রেম এতদিন ধরে বেঁচে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিলিগুড়ি বরাবরই ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। উত্তরবঙ্গজুড়ে দেশভাগের পর যে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষ এসে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন, তাঁদের আবেগ, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই এই ক্লাব শুধু একটি ফুটবল দল নয়, বহু মানুষের আত্মপরিচয় ও আবেগের প্রতীক।”
প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেবও ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্য, সাফল্য এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে ক্লাবের আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

