আলিপুরদুয়ার, ১৬ জুন:
আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক ভবন ‘ডুয়ার্সকন্যা’-য় সোমবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সরকারি দফতরগুলির কাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও, শিক্ষামন্ত্রী তথা ফালাকাটা বিধানসভার বিধায়ক দীপক বর্মণ, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে জেলার বিভিন্ন দফতরের চলমান প্রকল্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়েও পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানান, জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাজের বর্তমান অবস্থা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে বৈঠকে। তিনি বলেন, “কোন কোন দফতরে কী কাজ চলছে, সেই কাজ কতটা এগিয়েছে এবং আগামী দিনে কীভাবে আরও দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
অন্যদিকে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও বৈঠক শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের বাঘ আনার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বক্সায় বাঘ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও বনদফতর একযোগে কাজ করছে। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বক্সায় বাঘ আনার বিষয়ে চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
বনমন্ত্রী আরও বলেন, বক্সা সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকার বাসিন্দাদের একটি অংশকে বনছায়া এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন বাসিন্দা পুনর্বাসনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন বনমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য পুনরায় প্রবেশমূল্য চালুর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বনমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বনাঞ্চলে প্রবেশমূল্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে পর্যটন মহল এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বনভিত্তিক পর্যটনের একটি বড় অংশ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রয়েছে সকলের।
প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা আগামী দিনে জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

