শিলিগুড়ি ৭ আগস্ট
দশ বছরেও মেলেনি সমাধান, অনিশ্চয়তার মধ্যে পোড়াঝার–কাওয়াখালি ভূমিরক্ষা আন্দোলন
২০১৬ সালে শুরু হওয়া পোড়াঝার–কাওয়াখালি ভূমিরক্ষা আন্দোলনের এক দশক পেরিয়ে গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই। জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং অনিচ্ছুক জমিদাতাদের জমি ফেরতের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজও অব্যাহত রয়েছে।
কাওয়াখালি উপনগরী প্রকল্পের জন্য তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এসজেডিএ (SJDA) কাওয়াখালি, পোড়াঝার ও সংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণ করে। অভিযোগ, যাঁরা স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছিলেন তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন পরেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন পাননি। অন্যদিকে, একাংশ কৃষকের দাবি, তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেই জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতেই ২০১৬ সালে ভূমিরক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত দশ বছরে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিভিন্ন সময়ে একাধিক নেতা, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি আন্দোলনস্থলে এসে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বর্তমানে আন্দোলনের নতুন অধ্যায় হিসেবে গত সাত মাস ধরে আন্দোলনকারীদের একাংশ কাওয়াখালিতে এসজেডিএ-র একটি জমি দখল করে সেখানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাঁদের বক্তব্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং জমির অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারও আন্দোলনকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিধানসভায় বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে তোলার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বাস্তবে কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, তাঁরা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না কোথায় গেলে বা কার কাছে গেলে তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পরও জমি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীদের আশা, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে এগোবে সরকার।

