কোচবিহার, ২ সেপ্টেম্বর
পুজোর আগে কি বদলাবে কোচবিহার শহরের বেহাল রাস্তার ছবি? দুর্গাপুজোর মুখে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে এবার সরব হলেন প্রাক্তন বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে PWD দফতরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর সেখানেই মিলল ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তা মেরামতের আশ্বাস।
কোচবিহার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও বর্ষার জল ও কাদায় আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। বর্ষা পেরিয়ে গেলেও রাস্তার দুরবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। সামনে দুর্গাপুজো, তার আগে এই রাস্তার হাল না ফিরলে শহরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতেই পুজোর আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি সংস্কারের দাবিতে PWD দফতরে পৌঁছন প্রাক্তন বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে। সেখানে PWD-এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আলোচনায় শহরের বিভিন্ন এলাকার বেহাল রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
নিখিল রঞ্জন দে-র দাবি, দুর্গাপুজোর আগে রাস্তা সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। পুজোর সময় শহরে মানুষের চলাচল এবং যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তার আগে রাস্তার গর্ত ও বেহাল অংশগুলি মেরামত না করা হলে সাধারণ মানুষকে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আলোচনার পর PWD কর্তৃপক্ষের তরফে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে বেহাল রাস্তাগুলি মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রাক্তন বিধায়ক। অর্থাৎ পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি মিলেছে বলেই দাবি তাঁর।
তবে এখন বড় প্রশ্ন—১০ অক্টোবরের সময়সীমার মধ্যেই কি সত্যিই কোচবিহার শহরের বেহাল রাস্তাগুলির চেহারা বদলাবে? আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কত দ্রুত কাজ শুরু হয় এবং কতটা রাস্তা সংস্কার করা হয়, এখন সেদিকেই নজর শহরবাসীর।
কারণ রাস্তার বেহাল দশার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ওই রাস্তাগুলি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। রাস্তার গর্ত এড়াতে গিয়ে যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। পুজোর আগে এই দুর্ভোগ থেকে শহরবাসী কতটা মুক্তি পান, এখন সেটাই দেখার।

