কোচবিহার, ২৫ আগস্ট
কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির জনসংযোগ কর্মসূচিকে ঘিরে চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক যুবকের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বিজেপি নেতৃত্বের। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি—আর সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি ব্রাউন সুগার-সহ বেশ কিছু নেশাজাতীয় সামগ্রী। ঘটনায় ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, এদিন কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ কর্মসূচিতে বেরিয়েছিলেন বিজেপির জেলা শহর সভাপতি দীপা চক্রবর্তী-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই তাঁদের নজরে আসে এক যুবকের গতিবিধি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, যুবকটিকে নেশাগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ব্রাউন সুগার-সহ বেশ কিছু নেশাজাতীয় সামগ্রী পাওয়া যায় বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
শুধু উদ্ধার হওয়া সামগ্রীই নয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক নেশাজাতীয় সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনার খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে উঠে আসে আরও অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ওই বাড়িতে নিয়মিত মদ ও গাঁজার আসর বসত। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আরও চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত হন।
পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই নেশার কারবার কি শুধু ওই যুবককে ঘিরেই, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস কোথায়? ওই যুবকের সঙ্গে আর কারও যোগাযোগ রয়েছে কি না?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেশাজাতীয় সামগ্রীর উৎস, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং যুবকের সঙ্গে আরও কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না—সেসব দিক তদন্ত করে দেখছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কোনও নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

