শিলিগুড়ি, ২৫ আগস্ট
প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশাল বাহিনী। মাটিগাড়ার দুটি ওয়েবেল আইটি পার্কে একযোগে হানা দিল পুলিশ ও সাইবার ক্রাইমের আধিকারিকেরা। আচমকা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
অভিযানে এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলেও জানা গিয়েছে। ফলে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, একাধিক কম্পিউটার এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, অবৈধভাবে পরিচালিত বেশ কয়েকটি কল সেন্টার সিল করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ওই কল সেন্টারগুলিকে ব্যবহার করেই প্রতারণার কারবার চালানো হতো বলে অভিযোগ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের পাশাপাশি বিদেশের নাগরিকদেরও প্রতারণার জালে ফাঁসানো হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
কিন্তু কীভাবে চলত এই প্রতারণার চক্র? কারা ছিল এর নেপথ্যে? শুধু এই চারজনই কি এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম শাখা। বাজেয়াপ্ত করা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রতারণা চক্রের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের নজরে এখন উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নথিপত্র। সেগুলি খতিয়ে দেখে চক্রটির কাজের ধরন, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেই বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় বেশ কয়েকজনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের পরিচয় এবং অবস্থান জানার পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে মাটিগাড়ার দুটি ওয়েবেল আইটি পার্কে পুলিশের এই অভিযান ঘিরে এখন একটাই প্রশ্ন—এই কল সেন্টারগুলির আড়ালে চলা প্রতারণার জাল কতটা বড়? তদন্ত এগোলেই ধীরে ধীরে সামনে আসতে পারে সেই উত্তর।

