জলপাইগুড়ি, ৫ সেপ্টেম্বর
কোথাও ঢাক-কাঁসর, কোথাও কাদায় মেতে উঠলেন কিশোরেরা। আর সেই কাদার হাত ধরেই শুরু হল ৫১৭ বছরের প্রাচীন জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। শনিবার সকালে ঐতিহ্যবাহী ‘কাঁদো খেলা’র মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল রাজবাড়ির কাঠামো পুজো। রাজপরিবারের এই প্রাচীন রীতি আজও একইভাবে পালন হয়ে আসছে।
কথিত আছে, জন্মাষ্টমীর পরের দিন শ্রীকৃষ্ণ প্রথম কাদায় খেলেছিলেন। সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই রাজপরিবারে জন্মাষ্টমীর পরদিন ‘কাঁদো খেলা’র আয়োজন করা হয়। এই কাদাই পরবর্তীতে ব্যবহার করা হয় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলে আসছে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে।
শনিবার সকালে ঢাক ও কাঁসর বাজিয়ে স্থানীয় কিশোরদের নিয়ে কাঁদো খেলার আয়োজন করেন রাজবাড়ির সদস্যরা। এই উৎসবই পরিচিত ‘নন্দ উৎসব’ নামে। রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নেন।
রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য প্রণত কুমার বসুর উদ্যোগে এদিন কাঁদো খেলার আয়োজন করা হয়। তিনি জানান, এদিন রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর কাঠামো পুজো সম্পন্ন হয়েছে। তার আগের রাতে নিয়ম মেনে জন্মাষ্টমীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
কাঁদো খেলার পর এবার শুরু হবে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ। এই বিশেষ রীতিতে সংগৃহীত কাদা ব্যবহার করেই কাঠামোর উপর প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করবেন মৃৎশিল্পীরা। ফলে নন্দ উৎসবের মধ্য দিয়েই কার্যত রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।
রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো অত্যন্ত প্রাচীন। কালিকাপুরাণের নিয়ম মেনেই এই পুজো হয়ে আসছে। কাঠামো পুজো সম্পন্ন হওয়ায় এবার জোরকদমে শুরু হবে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ।
৫১৭ বছরের পুরনো এই রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য। সময় বদলেছে, বদলেছে অনেক কিছুই—কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ‘কাঁদো খেলা’র মতো ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি।

