শিলিগুড়ি, ১৫ সেপ্টেম্বর:
সুউচ্চ টাওয়ারের সরু লোহার কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে তখন এক ব্যক্তি চরম অনিশ্চয়তার মুখে। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটতে পারত বড় ধরনের বিপত্তি। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমহর্ষক পরিস্থিতিতে নিজের প্রাণের পরোয়া না করে যে পাঁচ জন জাঁবাজ অসামান্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলেন, এবার তাঁদের হাতেকলমে কুর্নিশ জানাল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। ঠিক কীভাবে রক্ষা পেল ওই ব্যক্তির জীবন?
ঘটনাটি গত ২ সেপ্টেম্বরের। শিলিগুড়িতে হঠাৎ করেই বিএসএনএলের একটি সুউচ্চ টাওয়ারে চড়ে বসেন এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি। তাঁকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন সাহসী মানুষ। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সফল উদ্ধারকার্য সম্পন্ন করা সেই পাঁচ বীরকে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কার্যালয়ে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত ও পুরস্কৃত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন সিভিল ডিফেন্সের কৃষ্ণ বর্মন, সুজন সিংহো, অমিত ঘোষ ও অজয় বর্মন। তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন নর্থ বেঙ্গল এক্সপ্লোরার ক্লাবের মাউন্টেন ক্লাইম্বার নিহাল সরকার। মঙ্গলবার খোদ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা ওই পাঁচ জনের হাতে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন এবং তাঁদের এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগের উচ্চ প্রশংসা করেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, টাওয়ার থেকে নিরাপদে উদ্ধারের পর ওই মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে বর্তমানে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের একটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। ওই পাঁচ তরুণের সময়োচিত পদক্ষেপে যে একটি অমূল্য প্রাণ রক্ষা পেল, তা নিয়ে এখন প্রশংসার জোয়ার বইছে গোটা শিলিগুড়িজুড়ে।

