বক্সিরহাট, ২৭ এপ্রিল :
সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা বজায় রাখতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সদের ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু সেই নার্সরাই যদি দিনের পর দিন কাজে অনুপস্থিত থাকেন, তবে চিকিৎসার চাকা থমকে যেতে বাধ্য। ঠিক এই চিত্রই ধরা পড়ল কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। নার্সদের লাগাতার গড়হাজিরা এবং কর্মক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের ইনডোর বা অন্তবিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলেন খোদ কর্তব্যরত চিকিৎসকরাই। রবিবার এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স থাকা সত্ত্বেও গত বেশ কিছু সময় ধরে তাঁদের উপস্থিতিতে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিচ্ছিল। অভিযোগ, রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি থাকলেও নার্সরা ঠিকমতো হাসপাতালে আসছিলেন না। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির কোনও হেরফের হয়নি। রবিবার সকালে সেই ক্ষোভের বারুদেই বিস্ফোরণ ঘটে। এ দিন হাসপাতালে নির্দিষ্ট ডিউটি থাকা সত্ত্বেও একজন নার্সও কাজে যোগ দেননি। ফলে ইনডোর ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগীদের ইনজেকশন দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য জরুরি পরিষেবা প্রদান করা চিকিৎসকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কোনও নার্স না আসায় চরম বিপাকে পড়েন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। একা হাতে চিকিৎসকদের পক্ষে সমস্ত পরিষেবা সচল রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিতে চিকিৎসকরা একজোট হয়ে হাসপাতালের ইনডোর ইউনিটের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের গেটে একটি পোস্টারও সেঁটে দেওয়া হয়। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নার্সদের অনুপস্থিতির কারণেই হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির দায় চিকিৎসকরা নিতে অক্ষম।
এদিকে চিকিৎসকদের এই আকস্মিক প্রতিবাদে চরম ভোগান্তির শিকার হন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। অন্তবিভাগ বন্ধ থাকায় অনেককে চিকিৎসা না করিয়েই ফিরে যেতে হয়। অসুস্থ পরিজনকে নিয়ে এসে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালে যদি এই ধরনের বিশৃঙ্খলা চলে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
চিকিৎসকদের দাবি, নার্স ছাড়া একটি অন্তবিভাগ পরিচালনা করা পরিকাঠামোগতভাবে অসম্ভব। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও যখন কোনও সুরাহা হয়নি, তখনই তাঁরা এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। রবিবারের এই ঘটনা তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের স্বাস্থ্য প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারাটি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই গুরুতর গাফিলতির বিরুদ্ধে এবং নার্সদের লাগাতার অনুপস্থিতি রুখতে কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আপাতত রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

