শিলিগুড়ি, ১৪ মে :
উত্তরবঙ্গের মাটিতে এবার দেখা মিলছে বিদেশি ফল রামবুটানের। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও লাল রঙের নরম কাঁটাযুক্ত এই ফলের বাজারদর ও চাহিদা দুই-ই বেশ আকর্ষণীয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় এই ফলকে ঘিরেই এবার নতুন কৃষি সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোফাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি লাগোয়া হাতিঘিসা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে রামবুটান চাষ করে ইতিমধ্যেই সাফল্য মিলেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার বৃহত্তর পরিসরে উত্তরবঙ্গ, বিহার, উত্তর-পূর্ব ভারত, এমনকি নেপাল ও ভুটানেও এই চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রামবুটানের বৈজ্ঞানিক নাম Nephelium lappaceum। ভিটামিন C, আয়রন, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এর চাহিদা রয়েছে। এখন ধীরে ধীরে ভারতের বাজারেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রামবুটান। বড় শহরের প্রিমিয়াম ফলের দোকান ও মলে এই ফলের দাম কেজিপ্রতি হাজার টাকার গণ্ডিও ছুঁয়ে ফেলছে।
কোফামের বিশেষজ্ঞদের দাবি, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ও মাটির গঠন এই ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। সেই কারণেই থাইল্যান্ড থেকে বিশেষ চারা এনে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করা হয়। হাতিঘিসার জমিতে ইতিমধ্যেই আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়ায় উৎসাহ বেড়েছে গবেষকদের।
কোফামের অধ্যাপক অমরেন্দ্র পান্ডে জানান, কেরালায় ইতিমধ্যেই রামবুটান বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও একই সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে খুব বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় এই চাষ সম্ভব নয়। তিনধারিয়া পর্যন্ত এলাকার আবহাওয়াকে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গাছ লাগানোর দু’বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। প্রথমদিকে একটি গাছ থেকে ৪-৫ কেজি ফল পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে সেই ফলন অনেক বেড়ে যায়। সঠিক পরিচর্যা করলে একটি গাছ কয়েক দশক পর্যন্ত টিকে থাকে এবং বছরে ৫০ থেকে ১০০ কেজিরও বেশি ফল দিতে সক্ষম। বর্তমানে পাইকারি বাজারে রামবুটানের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এক একর জমিতে ১০০টিরও বেশি গাছ লাগানো সম্ভব। সেই হিসেবে কয়েক বছরের মধ্যেই এক একর জমি থেকে লক্ষাধিক নয়, কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কোফামের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু চারা দেওয়া নয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে। বিশেষ করে বন্ধ বা ধুঁকতে থাকা চা বাগানের জমিকে বিকল্প কৃষির আওতায় এনে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা সফল হলে রামবুটান উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

