আলিপুরদুয়ার, ৫ জুলাই:
আলিপুরদুয়ার জেলার ভাটপাড়া চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ ধরা পড়ায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে চা বাগানের শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করতে এসে বাগানের ১৫ নম্বর সেকশনে রাখা খাঁচার ভিতরে চিতাবাঘটিকে দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনদপ্তরের কর্মীরা দ্রুত এলাকায় পৌঁছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে পশুচিকিৎসকদের মাধ্যমে চিতাবাঘটির সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর তাকে উপযুক্ত ও নিরাপদ বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে, যাতে সে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই ভাটপাড়া চা বাগানের বিভিন্ন অংশে চিতাবাঘের উপস্থিতির একাধিক প্রমাণ মিলছিল। শ্রমিকরা কাজের সময় বারবার বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী দেখতে পাওয়ার দাবি করেন। পাশাপাশি বাগানের বিভিন্ন স্থানে পায়ের ছাপও দেখতে পাওয়া যায়। এর জেরে চা বাগানের শ্রমিক এবং আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই ভোরবেলা কিংবা সন্ধ্যার পর বাগানে কাজ করতে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বনদপ্তর এলাকায় নজরদারি বাড়ায় এবং চিতাবাঘটিকে নিরাপদে ধরার জন্য কৌশলগতভাবে একটি খাঁচা বসানো হয়। অবশেষে রবিবার সকালে সেই খাঁচাতেই চিতাবাঘটি ধরা পড়ে। বনদপ্তরের এই উদ্যোগে বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চিতাবাঘটি ধরা পড়ায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ভাটপাড়া চা বাগানের শ্রমিক ও এলাকার বাসিন্দারা। তবে তাঁদের আশঙ্কা, একটি চিতাবাঘ ধরা পড়লেও বাগান বা সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় আরও চিতাবাঘ থাকতে পারে। তাই বনদপ্তরের কাছে এলাকায় আরও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চা বাগান ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একা জঙ্গলের ধারে বা ঘন ঝোপের কাছে না যাওয়া, দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করা এবং কোনও বন্যপ্রাণী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই চিতাবাঘের আনাগোনা দেখা যায়। বনাঞ্চল ও জনবসতির দূরত্ব কমে আসা, খাদ্যের সন্ধান এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় এই ধরনের বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। তাই বনদপ্তর একদিকে যেমন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

